1. admin@atvnews24.com : admin : Ashraf Iqbal
  2. bandpothik683@gmail.com : Asif Badhan : Asif Badhan
  3. smshorifgz@gmail.com : Shorif Gazi : Shorif Gazi
শুক্রবার, ৩১ মে ২০২৪, ০৫:০৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
দ্রুত পানিবন্দি মানুষদের উদ্ধারের ব্যবস্থা করুন : কাইয়ুম চৌধুরী শার্শায় বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজানুর রহমান জালালের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন শ্রীবরর্দীতে ৫০ পিছ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ইউপি সদস্য গ্রেফতার সিলেট সিটি কর্পোরেশন ওয়ার্ড সচিব এসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন হজ শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মানুষকে দেখানোর জন্য নয় : মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী এমপি সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভায় রাজিব আহসান আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনাকে দেশের মানুষ ঘৃনাভরে প্রত্যাখান করেছে শহিদ জিয়া স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ শুরু করেন: এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী ধামইরহাটে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ধামইরহাটে গ্রাম আদালত কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে দ্বি-মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে আদিবাসী শিশু ধর্ষণের দায়ে ধর্ষক ফাহিম গ্রেপ্তার

আড্ডার পিছনে ক্যাম্পাস জীবন

এটিভি নিউজ ২৪ ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৩ মার্চ, ২০২৪
  • ৫০ বার পঠিত

আড্ডার পিছনে ক্যাম্পাস জীবন

সোমা আক্তার:
ইডেন কলেজ, বাংলাদেশ। পরিচিতির জন্য এটুকু বলাই যথেষ্ট। উপমহাদেশের এই বিখ্যাত কলেজটির অঙ্কুরোদগম ১৮৭৩ সালে ঢাকার কোনো এক বাড়িতে ৪৭টি শিশুকে নিয়ে। সেদিনের সেই অঙ্কুর ক্রমেই বর্ধিত ও বিকশিত হয়ে আজকের এই ইডেনে পরিণত হয়েছে। আজ আর এটি ছোট কোনো কলেজ নয়। সারাদেশ থেকে প্রায় ৩৫০০০-৪০,০০০ ছাত্রী এই কলেজে পড়াশুনা করছে। নামে কলেজ হলেও প্রকৃতপক্ষে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সফল যোগ্যতা অর্জন করেছে এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণাটি শোনার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।
ইডেন মানে স্বর্গ, আর আমার কাছেও এটি স্বর্গেরই শামীল। যদিও শুরুটা আমার জন্য ভাল ছিল না। নিতান্ত অনিচ্ছাসত্ত্বেও ইডেন কলেজে ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছিলাম যখন দেশের অন্যতম বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার সুযোগ পাইনি। যাই হোক বাবার খুব ইচ্ছা ছিল আমাকে ইংরেজি পড়াবেন। সুযোগটিও হাতে এলো। ইংরেজিতে ভর্তি হলাম। এখানে বলে রাখা ভাল আমি স্কুল এবং কলেজ জীবনে এই বিষয়টিকেই বেশি ভয় পেতাম। এস.এস.সি. এবং এইচ.এস.সিতে রেজাল্ট ভাল ছিল। তবে সেটা ছিল শুধু মুখস্তবিদ্যার ওপর ভর করে। কোনো কিছু এমনভাবে মুখস্ত করতে পারতাম যে, এর কমা, দাঁড়ি পর্যন্ত অকপটে বলে দিতে পারতাম। যাই হোক, ইংরেজির শুন্য জ্ঞান নিয়েই ইংরেজিতে ভর্তি হলাম। কিন্তু খুবই দুঃখের বিষয় শ্রেণীকক্ষে শিক্ষকরা যে লেকচার দিতেন, তার কানাকড়িও বুঝতাম না। খুব বেশি হতাশ হয়ে পড়লাম। বাবা বলতেন, চেষ্টা কর। আমার বিশ্বাস তুমি পারবে। এই মানুষটা আমাকে সারাজীবন অনুপ্রেরণা দিয়ে গেছেন। আমার জীবনের প্রথম বন্ধু এবং শিক্ষকও তিনি।
এইবার আমার সম্পর্কে একটু বলি। আমি খুবই অন্তর্মুখী স্বভাবের। নতুন কারও সাথে মিশতে পারি না। আপন করে নিতে জানি না। দেখা গেল প্রথম বর্ষ শেষ হয়ে গেল কিন্তু আমার উল্লেখযোগ্য কোনো বান্ধবী হলো না। প্রথম বর্ষ পরীক্ষা দিলাম, কিন্তু যখন ফল প্রকাশিত হল অবাকই হলাম বটে। ১তম হয়েছি। তখন মনে হলো “হ্যাঁ, আমি পারবো । দ্বিতীয় বর্ষের প্রভাত ১১৮ ক্লাশ শুরু হল। এই বর্ষেই হোস্টেলে উঠলাম। কিন্তু ঘটল এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা, যার মুখোমুখি আমি কোনোদিনই হইনি। হোস্টেলে ওঠার এক মাস পরেই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দাঙ্গা শুরু হলো। কি আর করা তল্পিতল্পাসহ বাড়িতে পাড়ি জমালাম। এত ভয় পেয়েছিলাম যে, বাবাকে বললাম, আমি আর ঢাকা যাব না। যাই হোক একটানা ছয় মাস বাড়িতে থেকে যখন দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা হল তখন আবার ঢাকায় ফিরলাম। হোস্টেলে ফেরার পর আমার বন্ধুর সংখ্যা ক্রমশই বাড়ছিলো। সকালবেলা ক্লাশ, বিকেলবেলা বন্ধুদের সাথে পুকুরপাড়ে বসে আড্ডা। ভালই কাটছিলো দিনগুলো। এমনি একদিন এলো আমার জীবনের সবচেয়ে সুখের এবং আনন্দের একটি মুহূর্ত। সেদিন আমার দ্বিতীয় বর্ষের ফল প্রকাশিত হল। আমার এক বান্ধবী ফোন দিয়ে বলল, ‘দোস্ত তুই First class পেয়েছিস। নিজেকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না তখন। ইডেন কলেজের ইংরেজি বিভাগের রেকর্ড ভেঙ্গে দিলাম আমি। এটা কি বিশ্বাস করার মত! কিছুক্ষণ পর আবার ফোন এলো, ‘দোস্ত তুই ডিপার্টমেন্টে first হয়েছিস’। আমার খুশিতো আর বাঁধ মানছে না। একটু পর আবার ফোন, ‘দোস্ত not only in our department, you have gotten the first place in the whole country’. কথাগুলো বার বার আমার কানে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল আমি বিশ্বটাকে জয় করে ফেলেছি। যেখানেই যাচ্ছিলাম, বন্ধুরা অভিনন্দন জানাচ্ছিল। পরদিন ক্লাশে গেলাম। সবার সে কি উচ্ছ্বাস আমাকে নিয়ে। যেহেতু আমি পেছনের সারির ছাত্রী ছিলাম। তাই শিক্ষিকারাও আমায় ততটা চিনতেন না। First period-এ ম্যাডাম আমাকে ডাকলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন- ‘What do you want to be in your life?’ চিন্তা করার সুযোগই পেলাম না, বলে দিলাম, Madam, I want to be a super intendent of Police (S.P.). মেয়ে মানুষ হয়ে এস.পি. হতে চাই শুনে ম্যাডাম অবাকই হলেন। কিন্তু মজার বিষয় হল, সেদিন থেকে আমার সকল ক্লাশমেট এবং বন্ধুরা আমাকে এস.পি. ডাকা শুরু করল। এখনও আমি আমার বন্ধুদের কাছে পোস্টবিহীন এস.পি. হিসেবে খ্যাত। কিন্তু আফসোস হল যে, ওরা দিনদিন আমার বাবা-মায়ের দেয়া নামটা ভুলতে বসেছে। দেখা যাচ্ছে রাস্তা দিয়ে আমি কোথাও যাচ্ছি, দূর থেকে আমার কোনো বন্ধু দেখতে পেয়ে ডেকে উঠল, ‘এস.পি. কোথায় যাচ্ছিস?’ এবার বলি আমার এস.পি. হতে চাওয়ার এত প্রবল বাসনা কেন। ছোটবেলা থেকেই আমি পুলিশদের খুব পছন্দ করতাম। সাধারণত ছোট বাচ্চারা পুলিশ দেখলে ভয়ে দৌড়ে পালায়। আর আমি পুলিশ দেখলে হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মতো তাদের পিছু নিতাম। একবার মনে আছে, আমাদের গ্রামের মোল্লাবাড়িতে কোনো কারণে পুলিশ এসেছিল। আমি তখন খুবই ছোট। পুলিশের পিছু পিছু আমি ওই বাড়িতে চলে গিয়েছিলাম। দুই তিন ঘন্টা হয়ে গেল মা আমাকে খুঁজে পাচ্ছে না। বাবাকে খবর দেয়া হল। বাবা বাড়িতে আসলেন। সারাবাড়িতে হুলস্থুল কাণ্ড ঘটে গেল। তখন ছিল বর্ষাকাল। চারদিকে থৈ থৈ পানি। অনেকে ভাবল আমি মনে হয় পানিতে ডুবে গেছি। কেউ কেউ পানিতে নেমে খুঁজতেও শুরু করল। তারপর মসজিদে গিয়ে মাইকে হারানো সংবাদও দেয়া হল। যাইহোক এক চাচার সহযোগিতায় বাড়িতে আসতে পেরেছিলাম। মনে আছে সেদিন মা আমাকে অনেক মেরেছিল। কিন্তু তারপরও যে এমন ঘটনা আর ঘটেনি তা নয়। দ্বিতীয় শ্রেণীতে যখন পড়ি তখন আরও একবার হারিয়ে গিয়েছিলাম। এই বিষয়ে আর যাচ্ছি না। এবার আমার ক্যাম্পাস জীবনে আসি। তৃতীয় বর্ষে এসে আমরা বন্ধুরা মিলে একটা স্টাডি গ্রুপ গঠন করলাম। সদস্য ছিলাম ১১ জন। নাম দিলাম ‘Eleven Star। যেহেতু আমাদের একাডেমিক ক্লাশ সকাল ১০ টার দিকে শুরু হতো তাই পড়ার সময়টা দিলাম সকাল ৭.০০ ৯.৩০ এবং বলা হল নির্দিষ্ট সময়ে সকলের উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক। আমরা নিজেরাই একেকটা বিষয়ের শিক্ষিকা হলাম। তবে বিষয়গুলো ছিল আমাদের অনার্স সিলেবাসের বাইরে। আমি আর মুরজাহান পড়াতাম ইংরেজি, সেতু আর মিলি পড়ান্ত গণিত, ছবি আর মাহমুদা পড়াত বাংলাদেশ বিষয়াবলী, তাসলিমা ও নুপুর পড়াত আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী এবং বাংলা পড়াত জিশা আর নূরিয়া পড়ানোর পদ্ধতিটাও ছিল একটু ব্যতিক্রম। মাঠের কোণায় একটি গাছে ঝুলিয়ে শিক্ষিকা ছাড়া সবাই বেঞ্চে বসতাম আর শিক্ষিকা আমাদের পড়াতেন। বান্ধবী না বলে শিক্ষিকাই বলছি কারণ ওই সময়ে ওদেরকে দেখলে একজন শিক্ষিকাই মনে হতো। এভাবেই চলতে থাকল আমাদের স্টাডি। বলাবাহুল্য যে, ইতোমধ্যে প্রত্যেকটা ডিপার্টমেন্ট এবং হোস্টেলগুলোতে আমরা অনেক প্রশংসা কুড়ালাম। পরবর্তীতে দেখলাম আমাদের মতো এরকম অনেক ছোট ছোট গ্রুপ সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের একটা আপু ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিল। শিক্ষক-শিক্ষিকারা বললেন, যে যেভাবে পারো মেয়েটিকে সহযোগিতা কর। মেয়েটিকে ইন্ডিয়া নিয়ে চিকিৎসা করানো হবে। পরদিনই আমরা ১১ জন কলেজের প্রত্যেকটা হোস্টেল ঘুরলাম। কেউ ১০টাকা, কেউ ২০ টাকা, ৫০ টাকা, ১০০ টাকা এরকম করে আমরা ৮০০ টাকা জোগাড় করলাম। তারপর আমাদের পকেট থেকেও কিছু সামান্য পরিমাণ দিয়ে ১৩,০০০ টাকা তহবিলে জমা দিলাম। ‘Eleven Star’-এর নামে। পরদিন জানতে পারলাম একক হিসেবে সবচেয়ে বড় অঙ্কটা আমরাই দিয়েছিলাম। তবে আশার বাণী এই যে, সেই আপু এখন সুস্থ হয়ে একটি সরকারি চাকরি করছেন। এরপর একদিন ডিপার্টমেন্ট থেকে পাঁচ দিনের জন্য কক্সবাজার Tour-এ গেল। নিরাপত্তার অভাবে পরিবার থেকে যেতে দেয়া হল না। যেহেতু ডিপার্টমেন্ট পাঁচদিন closed থাকবে তাই আমরাও কোথাও ঘুরে আসার পরিকল্পনা করলাম। সিদ্ধান্ত হল নারায়ণগঞ্জ যাব তাজমহল দেখতে। ৩১ জানুয়ারি দিন নির্দিষ্ট হল। সবাই সকাল ৭টায় একত্রিত হলাম। ক্যান্টিন থেকে নাস্তা প্যাক করে নেয়া হল সবার জন্য। দুপুর ১২টার দিকে আমরা তাজমহল গিয়ে পৌঁছলাম, কিন্তু সাথে নেয়া নাস্তাগুলো এখনও খাওয়া হয়নি। তাই সবাই গোল হয়ে বসলাম নাস্তা খাওয়ার জন্য। আমি সবার হাতে এক এক করে খাবারের প্যাকেট তুলে নিলাম। কিন্তু শেষে গিয়ে দেখি আমার প্যাকেটটি নেই। তার কারণ হল ক্যান্টিনবয় ভুলে একটি প্যাকেট কম দিয়েছিল। কিন্তু মজার বিষয় হল ১০ বান্ধবীর কাছ থেকে একটু একটু করে খেয়ে শেষ পর্যন্ত দেখা গেল আমার খাওয়াটাই বেশি হয়ে গেল। তারপর সারাদিন অনেক মজা করে দুপুরে রেস্টুরেন্টে খেয়ে বিকেলের দিকে ফিরে এলাম। তৃতীয় বর্ষ জুড়ে এরকম অনেক রোমাঞ্চকর ঘটনা আছে। ফাল্গুন, বৈশাখ, ২১শে ফেব্রুয়ারি, ১৬ ডিসেম্বর কোনো উৎসবই বাদ দিতাম না। এরপর আসল তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষা। পরীক্ষা দিলাম ভালভাবেই। ফল প্রকাশিত হল কিন্তু আগের পজিশনটি ধরে রাখতে পারলাম না। ১ম থেকে চতুর্থ স্থানে চলে আসলাম। মনে আছে সেদিন আমি অনেক কান্না করেছিলাম। যাহোক এরপর থেকে শুরু হল কঠোর পড়াশুনা। আমাকে আগের পজিশনটি আবার ফিরে পেতে হবে। চতুর্থ বর্ষ পুরোটা বন্ধুদের সাথে তেমন আড্ডা দেয়া হয়নি স্টাডিটুকু বাদ দিয়ে। তবে মাঝে মাঝে সন্ধ্যায় সবাই একত্রিত হই ফুসকা মামার স্টলে। ফুসকা খাওয়া যতক্ষণ আড্ডাও ততক্ষণ। চতুর্থ বর্ষ পরীক্ষা দিলাম কিছুদিন আগেই। জানি না ফল কী রকম আসবে। সবশেষে বলতে পারি, ইডেন কলেজের কাছে আমি অনেকভাবেই ঋণী। ইডেন কলেজ আমাকে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছে। সংগ্রাম করতে শিখিয়েছে। অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে শিখিয়েছে। আর দিয়েছে মিষ্টি কতগুলো বন্ধু। যারা সবসময়ই আমার সকল কাজের অনুপ্রেরণাকারী।


লেখক: সাবেক শিক্ষার্থী, ইডেন সরকারি মহিলা কলেজ। সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট, চট্টগ্রাম।
Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর