Main Menu

সন্দেহ করা ভালোবাসারই বহিঃ প্রকাশ

সাইফুল ইসলাম বাবুল ঃ

মানুষ ভালোবাসে বলেই সন্দেহ করে। সন্দেহ করা মানে এই নয় যে সে তোমাকে বিশ্বাস করে না বরং তোমাকে হারাবার ভয়েই সন্দেহ করে। সন্দেহ থাকা ভালো তবে অতিরিক্ত সন্দেহ আবার নিচু মন মানসিকতার পরিচয় দেয় !

গভীর রাতে ফোন দিয়ে যদি ওয়েটিং পাওয়া যায় তখন না চাইতেও সন্দেহ এসে ভীর জমায়।বার বার বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে যদি কেউ এড়িয়ে চলে তখনও নানা রকমের প্রশ্ন মনে জায়গা করে বসে। বিশাল মেসেজ দেয়ার পর যদি ঘন্টার পর ঘন্টা চলে গেলেও যদি রিপ্লে না আসে কিংবা ছোট করে রিপ্লে চলে আসে তখনও মনের সন্দেহ বাসা বাধে। এইসব সন্দেহগুলো কোনটাই অবিশ্বাস না বরং হারাবার ভয় !

রাতে তোমার ফোন ওয়েটিং পেয়েও কিছুই বললো না। আবার তুমি বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে এড়িয়ে চললেও যদি তোমাকে এসব ব্যাপারে বিন্দুমাত্র প্রশ্ন না তুলে অথবা তুমি এসব নিয়ে প্রশ্ন করলেও যদি বলে আমি তোমাকে সন্দেহ করি না। আমি জানি তুমি আমাকে ঠকাবে না ইত্যাদি, তাহলে বুঝে নিতে হবে তার ভালোবাসায় নিশ্চই কোন ঘাপলা আছে। বুঝে নিতে হবে তোমাকে হারাবার ভয় তার মনে বিন্দুমাত্র কাজ করে না। মনে রেখো, বিনা সন্দেহে ভালোবাসা হয় না !

হারাবার ভয় থেকেই সন্দেহ জন্ম নেয়। অর্থাৎ কাউকে মন থেকে কাছে পেতে চাইলে সেখানে বিন্দুমাত্র হলেও সন্দেহ চলে আসবে। যে ভালোবাসায় একটুও সন্দেহ নাই, সেটা অনেকটা হাল ছেড়ে দেওয়ার মতো। ভাগ্যের উপর ছেড়ে দেওয়ার মতো। অনেকটা এরকমই যে পেলে পাবো, না পেলে নাই !

সন্দেহ করতে বলেছি বলে এই নয় যে, প্রতি সেকেন্ডে সেকেন্ডে সন্দেহ করতে হবে। এটা এক ধরনের ছ্যাঁচড়ামি। অতিরিক্ত সন্দেহ করা কিন্তু বড্ড খারাপ। অতিরিক্ত সন্দেহ যে কোন সম্পর্কই সামনে আগাতে দেয় না। অতিরিক্ত সন্দেহ সব সময় নিজেকে ছোট করে রাখে আর নিচু মন মানসিকতার পরিচয় দেয় !

তোমার পাশে ঐ ছেলেটা কিংবা মেয়েটা আছে কেন ? ঐ ছেলেটা কিংবা মেয়েটার সাথে রিক্সায় উঠছো কেন ? কাল সারাদিনে তোমার একটুও খবর পাইনি কেন ?এতো ছেলে কিংবা মেয়েদের সাথে মিশো কেন ? ঐ ছবিতে লাভ রিয়েক্ট কেন দিছো ?ঐ পোস্টে কমেন্ট করলা কেন ? ইত্যাদি !

বিশ্বাস করো এইসব ছোট খাটো বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা প্রত্যেকটা মানুষই হলো নিচু জাতের মানুষ। এক প্রকারের ছোটলোক।এইসব প্রশ্ন তুলে সন্দেহ করা কখনোই ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হতে পারে না।এগুলো হলো একধরণের ছ্যাঁচড়ামি। যারা এসব তুলে প্রশ্ন করে মূলত তারাই ভন্ড। ভক্তি করা ভালো, অতিভক্তি আবার চোরের লক্ষণ !

প্রিয় মানুষকে দেখেশুনে রাখা ভালো। কখন কোথায় যাচ্ছে, কি করছে এসবও খবর রাখা ভালো… এগুলো একধরণের ভালোবাসা… তবে কখন কোথায় কার সাথে আছে, সাথে ছেলে নাকি মেয়ে কিংবা এতো দেরী করছে কেন, এসব বলে বার বার সন্দেহ করা খারাপ। এতে সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায় !

ভালোবাসার মানুষটিকে ঠিক ততটুকুই আগলে রাখো যতটুকু সে আগলে থাকতে চায়।এমন ভাবে ধরে রাখতে চেয়েও না, যাতে সে অতিষ্ঠ হয়ে দম বন্ধ হয়ে মরে যায়। আবার একেবারেই ছেড়ে দিও না, যাতে সে দিক না পেয়ে হায়িয়ে যায় !”






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*