Main Menu

বগুড়ার সংরক্ষিত মহিলা আসনে এগিয়ে আছেন সুমনা রায়

খোঁজখবর২৪ ডেস্ক:: বগুড়া-জয়পুরহাট নিয়ে গঠিত সংরক্ষিত মহিলা আসনে অনেকেই এম.পি হওয়ার দৌড়ে সামিল হয়েছেন। তবে সব ধরনের যোগ্যতা বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত কে শেষ হাসি হাসবেন তা নির্ভর করছে আওয়ামীলীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর। বৃহত্তর বগুড়া থেকে যারা মনোনয়নপত্র কিনেছেন তাদের মধ্যে অনেকের নাম বাতাসে ভাসলেও সুমনা রায়ের নাম জোরে সোরেই উচ্চারিত হচ্ছে। অবশ্য এর পিছনে তাঁর অতীত ইতিহাস অনেক বড় করে দেখা হচ্ছে। এছাড়াও তিনিই একমাত্র নারী যিনি দৈনিক সংবাদপত্রের প্রথম সম্পাদক হিসেবে এক যুগ পার করে দিয়েছেন। যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সাগর রায়ের সহধর্মীনি হিসেবে তাঁকে যে সংগ্রাম করতে হয়েছে সেটাও একটি বিবেচ্য বিষয়। এছাড়া দৈনিক চাঁদনী বাজার পত্রিকার মাধ্যমে তিনি আওয়ামীলীগের প্রচার প্রোপাগান্ডা চালিয়ে গেছেন দুঃসময় থেকে শুরু করে সুসময় পর্যন্ত এবং এখনও তা অব্যাহত আছে। অন্য যারা কিনেছেন তাদের রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড যথেষ্ট শক্তিশালী হলেও সুমনা রায়ের হিসাবটা অন্যভাবে উচ্চমহলে বিবেচ্য হচ্ছে।

এদিকে সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ হয়েছে একাদশ জাতীয় নির্বাচন । উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তিকে জয়ী করে স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে জনগণ আওয়ামী লীগ কেই বেছে নিয়েছে আওয়ামী লীগের এমন নিরঙ্কুুশ বিজয় ও আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা প্রমান করে এদেশের মানুষ বঙ্গবন্ধুর নীতি আদর্শকেই লালন করে যার ফলে টানা তৃতীয়ও বারের জন্য সরকার গঠন করছে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী ও উদারপন্থী দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। গত ১ জানুয়ারি নির্বাচন এর গেজেট প্রকাশও হয়েছে। আইন অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। যার ফলে আগামী এপ্রিল এর মধ্যে সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচন শেষ করতে হবে । ইতিমধ্যে সরকারী দল মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করেছেন । সংবিধান অনুযায়ী সংরক্ষিত মহিলা আসন ৫০ টি এই সংখ্যা কে ৩০০ নির্বাচনী এলাকা দিয়ে ভাগ করলে যে ফল পাওয়া যাবে তার সাথে একেকটি দলের যতজন সংসদ সদস্য শপথ নিয়েছেন তার সংখ্যা দিয়ে গুণ করলে যে সংখ্যা পাওয়া যায় তা হবে ওই দল বা জোটের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংখ্যা সে মোতাবেক আওয়ামী লীগ পাবে ৪৩ টি জাতীয় পার্টি পাবে ৪ টি , ঐক্যফ্রন্ট পাবে ১ টি অন্যান্য দল পাবে ২ টি ।

আওয়ামী লীগের টানা তৃতীয়বারের মত বিশাল বিজয়ের পরে মন্ত্রীসভা গঠিত হবার পর তারা খুব দ্রুতই সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্যদের সংসদে যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করতে চায়। তাই ইতিমধ্যেই সংরক্ষিত মহিলা আসনে মনোনয়ন পেতে জোর তদবির লবিং শুরু করেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যেই নতুন মন্ত্রীসভায় নতুনদের ঠাঁই দিয়ে চমক দেখিয়েছেন । সংরক্ষিত মহিলা আসনেও এমন যোগ্য সৎ, শিক্ষিত, জনপ্রিয়ও সবার কাছে গ্রহণ যোগ্য ব্যাক্তিকে মনোনীত করে আরেকটি চমক দেখাবেন বলে সবাই আশা করছেন । সাধারণত ৬ টি আসনের বিপরীতে ১ জন সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য হতে পারে। সে মোতাবেক বগুড়া -জয়পুরহাট অঞ্চলের জন্য একজন সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য থাকবেন ইতিমধেই এ অঞ্চলের সম্ভব্য প্রার্থীরা বিষয়টি নিয়ে দলের কাছে জোর প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা দলের কাছে বিগত দিনের কর্মকান্ড দলের জন্য তাঁদের অবদান, ত্যাগ তুলে ধরছেন । যাদের মধ্যে এগিয়ে আছেন বগুড়ার বহুল প্রচারিত দৈনিক চাঁদনী বাজার সম্পাদক সুমনা রায়। যুদ্ধাহত পরিবারে তার জন্ম। সুমনা রায়ের পরিবারের মহান মুক্তিযুদ্ধে রয়েছে আত্ম বিসর্জনের বেদনা বিঁধুর ট্রাজেডিময় এক ইতিহাস। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ডাকে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর আল বদর আল শামস এদেশে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ, অগ্নি-সংযোগ, লুটপাট শুরু করে। বাদ যায়নি বগুড়াও। ১৯৭১ সালের ২৬ এপ্রিল তার দাদু (নানা ) মনমথ নাথ কুন্ডু তার পরিবার পরিজন নিয়ে তার ভায়রা ভাই খিতিশ কুন্ডুর বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেই সময় নাগরনদের অববাহিকায় বগুডা জেলার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় চৌধুরীপাড়ায় পরদিন ১৯৭১ সালের ২৭ এপ্রিল এক নারকীয় হত্যাযজ্ঞ তান্ডবলীলা চালায় পাকহানাদার বাহিনী তাদের এ হত্যাযজ্ঞে নির্মম ভাবে প্রাণ হারান তার দাদু (নানা) মনমথ কুন্ডু দিদি মা (নানি ) দূর্গা রানী কুন্ডু মামা কালাচাঁদ কুন্ডু , ৭ মাসের অন্তঃসত্ত¦া মামী শেফালী কুন্ড সহ ৮ জন। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে পালাতে গিয়ে পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন তার মামাত দুই ভাই শিশু সুব্রত কুন্ডু (৬) ও পলাশ কুন্ডু (৪)। তারা আজও সেই ক্ষতচিহ্ন বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছেন। সেই সময় পাক হানাদার বাহিনীর তান্ডব নীলা এতটাই ভয়ংকর ছিল যে তাদের নিহত স্বজনদের ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী সংস্কার করতে পর্যন্ত পারেননি তাঁরা। স্থানীয় ব্যক্তিদের সহযোগিতায় চৌধুরী বাড়ির পেছনে পিটাহারি গাছের নিচে তাদের পুঁতে রাখা হয়। নিহতদের স্মরণে ইতিমধ্যেই সরকার চৌধুরী বাড়ীর পেছনে বধ্যভূমি সৃতিস্তম্ভ নির্মাণ কাজ হাতে নিয়েছেন।

ছাত্র জীবন থেকেই সুমনা রায় বঙ্গবন্ধুর আদর্শে গড়া দল মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দানকারি দলের জন্য যার অকৃত্রিম ভালবাসা ত্যাগ দেখিয়েছেন । ছাত্র জীবনেই তিনি জড়িয়ে পরেন রাজনীতিতে। সে সময় বগুড়া আজিজুল হক কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগের পক্ষে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন ।

দলীয়ও সূত্র জানায় এবার যারা পূর্বে সংসদ সদস্য হননি দলের দুর্দিনে যারা পাশে ছিলেন এমন ব্যক্তিকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে। আমরা মনে করি সে দিক থেকেও সুমনা রায় এগিয়ে। ছাত্রজীবন থেকে যিনি আওয়ামী লীগের জন্য ত্যাগ স্বীকার করে আসছেন সুমনা রায় । ১৯৯৭ সালে তার স্বামী বঙ্গবন্ধুর আদর্শে গড়া রাজপথের পরীক্ষিত সৈনিক তৎকালীন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক তৎকালীন সময়ে সরকারী দলের নানা রকম চক্রান্ত, হামলা, মামলার নির্যাতনের শিকার হয়ে কখনো ফেরারি আসামী হয়েছেন কখনও বা জেলে গেছেন। সেই সময় একজন সুমনা রায় কে কখনো জেল গেটে কখন বা কোর্টের বারান্দায় ছোটাছুটি করতে হয়েছে। একদিকে সন্তান পরিবার পরিজনদের দেখাশোনা অন্য দিকে অন্যদিকে স্বামীর মুক্তির জন্য দৌড়ঝাঁপ । সবমিলিয়ে তাকে বিভীষিকাময় দিন পার করতে হয়েছে তবুও তিনি সামান্যতম বিচলিত হননি বরং বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে সকল বৈরী ও প্রতিকূল পরিবেশে অসীম ধৈর্য্য, দৃঢ়তা ও সাহসিকতার সাথে মোকাবেলা করেছেন। তবুও দলের জন্য কাজ করে গেছেন নিরলস ভাবে। ২০০৫ সালে তিনি যখন দৈনিক চাঁদনী বাজারের দায়িত্ব নেন তখন পত্রিকাটি রুগ্ন অবস্থায় ছি।

প্রায় বন্ধ হয়ে যাবার মত অবস্থা । প্রতিদিন পত্রিকাটি প্রকাশ করে সময় মত পত্রিকাটি পাঠকের হাতে তুলে দেওয়ায় সেই সময় ছিল বড় চ্যালেঞ্জ । সে সময় রাজনৈতিক প্রতিকূল ও বৈরী পরিবেশের মধ্যে তার সৃজনশীল মেধা, প্রজ্ঞা ,দৃঢতা, দূরদৃষ্টি এবং সাহসী পদক্ষেপের মধ্যে দিয়ে চাঁদনী বাজারকে এ অঞ্চলের জনপ্রিয়ও পত্রিকায় পরিণত করেছেন । তার পর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি । বিএনপি -জামায়াত অধ্যুষিত এ এলাকায় বঙ্গবন্ধুর আদর্শে গড়া অসাম্প্রদায়িক চেতনার উদারপন্থী দল আওয়ামী লীগ কে জনসাধারণ ও গণমানুষের মাঝে তুলে ধরতে তিনি ও তার পত্রিকা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন । এছাড়াও সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরছেন এ অঞ্চলের মানুষের মাঝে, যা এ অঞ্চলে দলের ভাবমূর্তি উন্নয়নে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে । এক রকম বলাচলে তিনি এ অঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির শক্তিশালী প্রচার মাধ্যাম বা গণমাধ্যম তৈরিতে সমর্থ হয়েছেন। তিনি একজন মেধাবী, বিচক্ষণ ও দক্ষ ব্যক্তি । তিনিই বাংলাদেশের প্রথম মহিলা সম্পাদক। তিনি সাংবাদিকদের সেকেন্ড হোমখ্যাত প্রেসক্লাব তথা বগুড়া প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করছেন। একজন ব্যক্তি সুমনা রায় এ অঞ্চলের সকল শ্রেণী -পেশা ও দল মত নির্বিশেষে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য ও প্রিয় ব্যক্তি। তাকে মনোনয়ন দিলে সবার কাছে যেমন গ্রহণ যোগ্যতা পাবে তেমনি এ অঞ্চলের গনমানুষের মাঝে দলের ভাবমূর্তি উজ্জল হবে বলে আমরা আশা করছি । এছাড়াও গণমাধ্যম গণমানুষের কথা বলে। গণমাধ্যম গনমানুষের আশা আকাঙ্ক্ার প্রতিফলন ঘটায়। গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ। তিনি যেহেতু একটি গণমাধ্যমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি এ অঞ্চলের গনমানুষের ভাষা ভাল বুঝবেন। তিনি তার মেধা ,দক্ষতা ও যোগ্যতা দিয়ে এ অঞ্চলের নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় তাদের জীবন মান উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত উন্নয়ন প্রকল্প গুলো বাস্তবায়নে ব্যাপক অবদান রাখতে পারবেন। সুমনা রায় একজন সফল মানুষ। একজন সফল মানুষই পারে সফলতা এনে দিতে। একজন সফল মানুষই পারে সফলতার পথ দেখাতে। তার মাধ্যমেই আসবে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নযনের সফলতা। একজন জনপ্রতিনিধি একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তি। তাই তাকে সৎ ও গ্রহণ যোগ্য, মেধাবী, দক্ষ মানুষ হতে হবে । আমরা মনে করি সুমনা রায় একজন মেধাবী, সৎ, দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তি তাই তিনি এ অঞ্চলের নারী শিশু ও গণমানুষের ভাগ্য উন্ননে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারবেন ।

পরিশেষে বলা চলে, আমাদের মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা নিজেও তার পিতা বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানসহ প্রাণ প্রিয় আপনজনদের হারিয়েছেন, যা ছিল বাঙালী জাতির ইতিহাসে এক কলঙ্কিত অধ্যায় । তাই তিনি স্বজন হারানোর ব্যাথা সবচেয়ে ভাল বোঝেন। তিনি মহান মুক্তি যুদ্ধে আত্মবিসর্জনকারী, যুদ্ধাহত এ পরিবারের প্রতি সহানুভূতি, সহমর্মিতা এবং মমত্ববোধ দেখাবেন বলে আমরা আশা করছি। আমরা মনে করি শহিদ পরিবারের সদস্য সুমনা রায় কে সংরক্ষিত মহিলা আসনে মনোনয়ন দিলে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মবিসর্জন কারি যুদ্ধাহত এ পরিবারের শহিদদের প্রতি যথাযথ সন্মান প্রদর্শন করা হবে এবং যার মধ্য দিয়ে রচিত হবে ক্ষুধা মুক্ত, দারিদ্র মুক্ত লাখো শহীদদের রক্তের বিনিময়ে পাওয়া বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ ।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*