Main Menu

এমপি প্রার্থী হতে বিশেষ দলকে অর্থ দেন দুবাই প্রবাসী

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশে ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে একজন দুবাই প্রবাসী একটি বিশেষ দলকে (বিরোধী) টাকা দিয়েছিলেন। টাকা নিয়ে দলটি ওই ব্যক্তিকে প্রার্থী করলেও আবুধাবি দূতাবাসে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি। এতে ওই ব্যক্তি হতাশ হন। একপর্যায়ে তিনি (দুবাই প্রবাসী) বলেন, এজন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ তিনি দলটি ও লন্ডনের একজনকে দিয়েছিলেন। তখন তাকে বলা হয়েছিল তিনি এখানে (আবুধাবি) মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। মঙ্গলবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইংরেজি দৈনিক গালফ নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা এ অভিযোগ করেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগের জবাবে শেখ হাসিনা আরও বলেন, আবুধাবির বাংলাদেশ দূতাবাসে ওই ব্যক্তি মনোনয়নপত্র দাখিল করতে গিয়েছিলেন। তখন দূতাবাস কর্মকর্তারা জানান, তারা মনোনয়নপত্র গ্রহণ করতে পারবেন না। মনোনয়নপত্র জমা দিতে চাইলে তাকে দেশে গিয়ে রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দিতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি জানান দূতাবাস কর্মকর্তারা। শেখ হাসিনা আরও বলেন, নির্বাচন নিয়ে বিশেষ দলটি মোটেও আন্তরিক ছিল না। তারা (বিশেষ দল) প্রতিটি আসনে দুই থেকে তিনজন করে ৩০০ আসনে প্রায় ৯০০ জনকে মনোনয়ন দিয়েছিল। একটি আসনে দুই থেকে তিনজনকে একটি দল মনোনয়ন দিলে কীভাবে জয়লাভ করা সম্ভব?

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে গালফ নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে রোহিঙ্গা সমস্যা সম্পর্কেও শেখ হাসিনা কথা বলেন। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে প্রত্যাবর্তনের ব্যাপারে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মিয়ানমারকে অবশ্যই রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে হবে।

তিনি বলেন, মানবতার খাতিরে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তনে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তবে এখন পর্যন্ত রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়নি। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের অবশ্যই নিরাপদ ও সম্মানের সঙ্গে ফিরিয়ে নিতে হবে। এদিকে, ভারতের পার্লামেন্টের নিুকক্ষে পাস হওয়া দেশটির সংশোধিত নাগরিকত্ব বিলের উদ্দেশ্য বুঝতে পারছেন না বলে মন্তব্য করেছেন শেখ হাসিনা।

একই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এ বিল কেন? আমি বুঝতে পারছি না। মুচকি হেসে তিনি আরও বলেন, এটার উদ্দেশ্য কী নির্বাচনী চমক? তিনি আরও বলেন, তিনি কখনোই মনে করেন না নাগরিকত্ব বিলের মাধ্যমে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় নিপীড়নের জন্য বাংলাদেশকে দোষারোপ করার অর্থ বহন করে। এ রকম মনে করি না। তিনি বলেন, আমার ধারণা ভারতের মানুষও এ বিল নিয়ে খুশি নন। উত্তেজনা তৈরি করে এমন কোনো কাজ ভারতের করা উচিত নয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে ধর্মীয় নিপীড়নের ঘটনা নেই। কিছু ঘটনা ঘটলেও তাৎক্ষণিক সেটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ধর্মীয় চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদ একটি বৈশ্বিক সমস্যা। আর এটা শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়। শেখ হাসিনা বলেন, আসাম ও অন্য সব এলাকায় অপ্রতিরোধ্য বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটত। কিন্তু তার সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশে থাকা ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ায় এ ধরনের ঘটনা আর ঘটছে না। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে তাদেরও এসব কিছু বিবেচনা করা উচিত।

তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় বিশাল জনসংখ্যা রয়েছে এবং দারিদ্র্যের হার অনেক বেশি। শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিবেশীদের বলেছি, আমাদের অভিন্ন একটা শত্রু আছে- সেটা হল দারিদ্র্য। এর বিরুদ্ধে সবাইকে একসঙ্গে লড়তে হবে। বুদ্ধিজীবী ও অ্যাকটিভিস্টদের ওপর নিপীড়নের ঘটনার ব্যাপারে শেখ হাসিনা বলেন, ব্লগার ও অনলাইন অ্যাকটিভিস্টদের হত্যা একটি নতুন ঘটনা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল। দেশের মানুষ এবং সরকার পরিষ্কারভাবে এসব হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং হোতাদের ধরতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০১৬ সালের পর এখন পর্যন্ত কোনো ব্লগার কিংবা অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি; যা সরকারের নেয়া পদক্ষেপের কার্যকর প্রতিফলন। এছাড়া যারা হুমকি পেয়েছেন পুলিশের সঙ্গে তাদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*